পোশাকশ্রমিকদের নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণে গঠিত মজুরি বোর্ড দ্রুততম সময়ের মধ্যে মজুরি ঘোষণা করবে। বোর্ডের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন মজুরি বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকরা। একই সঙ্গে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ ও বিশৃঙ্খলা এড়িয়ে শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সচিবালয়ে শ্রম মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। ইতিমধ্যে বুধবার বোর্ডের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বৈঠকেই কোন সময়সীমার মধ্যে নতুন নিম্নতম মজুরি ঘোষণা করা হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, অতীতে কখনো এত দ্রুত এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, সরকার এবং শ্রমিক অধিকার নিয়ে কাজ করা দায়িত্বশীল ফেডারেশনগুলো সম্মিলিতভাবে এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে।

মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘আমাদের এই কাজের প্রতি আস্থা রাখবেন। যে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে, এই বোর্ডের প্রতি আস্থা রেখে তাদের সুস্থ মস্তিষ্কে কাজ করার সুযোগ দিলে মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া সহজ হবে। এতে শিল্প, শ্রমিক এবং দেশের অর্থনীতি লাভবান হবে।’

শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে নিজ নিজ কারখানায় কাজে ফিরে যেতে হবে। শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণে সরকার, শ্রমিক ফেডারেশন ও মালিকপক্ষ যৌথভাবে কাজ করছে।

বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবি মজুরি বৃদ্ধি নিয়ে সরকার, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ কিংবা শ্রমিক প্রতিনিধিদের মধ্যে কোনো দ্বিমত নেই। সবাই এ দাবির প্রতি সহানুভূতিশীল। এ কারণে যত দ্রুত সম্ভব মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, মজুরি বোর্ড দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন মজুরি নির্ধারণ করবে। বোর্ড যে সময়সীমা নির্ধারণ করবে, মালিকপক্ষ সেই সময়ের মধ্যেই নতুন মজুরি বাস্তবায়ন করবে।

তবে শুধু মজুরি বাড়ালেই শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় কমবে না বলে মনে করেন মোহাম্মদ হাতেম। তিনি বলেন, মজুরি বাড়ানোর পর অনেক সময় বাড়িওয়ালারা বাড়িভাড়া বাড়িয়ে দেন। এতে মজুরি বৃদ্ধির সুফল শ্রমিকদের হাতে খুব একটা থাকে না।

এ জন্য শ্রমঘন এলাকাগুলোতে বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকর করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে বাড়িওয়ালারা যাতে ইচ্ছামতো ও জোরপূর্বক বাড়িভাড়া বাড়াতে না পারেন, সে বিষয়টি মনিটরিংয়ের অনুরোধ করেন।

শ্রমিকদের জন্য রেশন সুবিধা চালুর দাবিও জানান বিকেএমইএ সভাপতি। তিনি বলেন, সরকার বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের জন্য রেশন ও ফ্যামিলি কার্ডসহ নানা ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছে। দেশের সর্বোচ্চ রপ্তানি আয়ের খাতের যোদ্ধা পোশাকশ্রমিকদের জন্যও অন্তত একটি রেশনব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন।

এ ছাড়া শ্রমঘন এলাকাগুলোতে শ্রমিকদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার দাবি জানান তিনি। এতে শ্রমিকেরা স্বল্প খরচে চিকিৎসাসেবা নিতে পারবেন। পাশাপাশি শ্রমিকদের আবাসন সংকট সমাধানে বিভিন্ন শিল্প এলাকায় ডরমিটরি বা আবাসিক ভবন নির্মাণের প্রস্তাব দেন তিনি।

সাম্প্রতিক শ্রমিক অসন্তোষের প্রসঙ্গ টেনে মোহাম্মদ হাতেম বলেন, কয়েক দিন ধরে যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে, তা যেন আর না ঘটে। এ ধরনের পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে পারে এবং সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে পারে।

শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনাদের জন্য সবাই কাজ করছে। আমরা অনুরোধ করব, আপনারা কাজে ফিরে যান। আমরা আপনাদের পাশে আছি।’