সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধনী ম্যাচে ভারত-পাকিস্তানের লড়াই, গ্যালারিতে ফুটবল উন্মাদনা, সন্ধ্যায় জমকালো আয়োজন আর আতশবাজির ঝলকানি-সব মিলিয়ে ছিল উৎসবের আবহ! তবে বৃহস্পতিবার জাতীয় স্টেডিয়ামে সেই উৎসবকে পূর্ণতা দিতে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল একটি গোল। সেটির জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে ৬৯ মিনিট পর্যন্ত। শেষ পর্যন্ত বদলি হিসেবে নামা মোহাম্মদ ইব্রাহিমের পায়ের জাদুতেই ভুটানের রক্ষণদুর্গ ভেঙেছে বাংলাদেশ। ১-০ গোলের জয় দিয়ে সাফের ১৫তম আসরে শুভসূচনা করেছে লাল-সবুজের দল!
পল্টনের জাতীয় স্টেডিয়ামে আজ দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে ভুটানের বিপক্ষে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল বাংলাদেশ। গোলের জন্য মরিয়া হয়ে একের পর এক আক্রমণ সাজিয়েছে দল। কিন্তু সুযোগ তৈরি হলেও শেষ মুহূর্তে গিয়ে বারবার আটকে গেছে সব প্রচেষ্টা। প্রথমার্ধেই ১২টি শট নিয়েছিল বাংলাদেশ। তবু গোলের দেখা মেলেনি। উইং দিয়ে আক্রমণ, বক্সে ক্রস-সবই ছিল, ছিল গোলের সুযোগও। শুধু জালের দেখা পাচ্ছিল না স্বাগতিকেরা।
১৭তম মিনিটে রাকিব হোসেনের দারুণ ক্রস থেকে ছোট বক্সের সামনে লাফিয়ে হেড নিয়েছিলেন বিশ্বনাথ। কিন্তু বল চলে যায় পোস্টের বাইরে। আট মিনিট পর ফাহিমের শট ফিরিয়ে দেন ভুটানের গোলকিপার। ফিরতি বলে সমিতের জোরালো প্রচেষ্টাও আটকে যায় রক্ষণে। ওই আক্রমণের ধারাবাহিকতায় বিশ্বনাথের টোকাও লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি। ৩৯তম মিনিটে রাকিবের রক্ষণচেরা পাসে আবারও সুযোগ পেয়েছিলেন বিশ্বনাথ। এবারও তাঁর শট চলে যায় পোস্টের পাশ দিয়ে। একের পর এক সুযোগ নষ্টের হতাশা নিয়েই গোলশূন্য বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।
বিরতির পরও বাংলাদেশের আক্রমণে প্রত্যাশিত ধার দেখা যায়নি। বরং ৪৫ থেকে ৬৪ মিনিট পর্যন্ত মধ্যমাঠের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই ছিল ভুটানের হাতে। দু-একবার বাংলাদেশের রক্ষণেও অস্বস্তি তৈরি করে তারা। ম্যাচের গতিপথ বদলাতে কোচ ডুলি আনেন পরিবর্তন। ৬৫তম মিনিটে জামাল ভূঁইয়ার বদলে সোহেল রানা এবং বিশ্বনাথের জায়গায় মোহাম্মদ ইব্রাহিমকে মাঠে নামানো হয়। আর তাতেই যেন প্রাণ ফিরে পায় বাংলাদেশের আক্রমণ।
মাঠে নেমেই প্রভাব রাখতে শুরু করেন বদলি খেলোয়াড়েরা। ৬৫তম মিনিটে বাঁ প্রান্ত দিয়ে ফাহামেদুল ইসলামের দুর্দান্ত দৌড়ের পর নেওয়া শট ফিস্ট করে ফেরান ভুটানের গোলকিপার গিয়েলশেন জাংপো। তিন মিনিট পর আবারও আক্রমণ। জায়ানের লম্বা বল থেকে রাকিবের হেড, সেখান থেকে সমিতের ফিরতি হেড ডিফ্লেক্ট হয়ে পৌঁছে যায় ইব্রাহিমের কাছে। এবার আর ভুল করেননি ফর্টিস এফসির এই ফরোয়ার্ড। ডান পায়ের নিখুঁত শটে বল জালে পাঠিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন তিনি।
গোলের পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে গ্যালারি। এতক্ষণ যে গোলের অপেক্ষায় ছিল সমর্থকেরা, সেটির দেখা মিলতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে জাতীয় স্টেডিয়াম। বাকি সময়ে ব্যবধান বাড়াতে না পারলেও ইব্রাহিমের সেই এক গোলের লিড ধরে রাখতে পেরেছে বাংলাদেশ। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে জয় নিশ্চিত হয় জামাল ভূঁইয়াদের।
ম্যাচের আগে সন্ধ্যায় সাফের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ২০০৩ সালের সাফজয়ী দলের সদস্য ও বর্তমান সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। ট্রফি উন্মোচন ও আতশবাজির মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া আয়োজনের আনন্দ শেষ পর্যন্ত মাঠের লড়াইয়েও ধরে রাখে বাংলাদেশ। ভুটানের বিপক্ষে সাফে আগের সাতবারের মুখোমুখিতে ছয় জয় ও এক ড্র ছিল বাংলাদেশের। এবারও জয় তুলে নিয়ে সেই আধিপত্য অক্ষুণ্ন রাখল দল।
এই জয়ে ‘এ’ গ্রুপ থেকে সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনাও উজ্জ্বল করেছে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের পরের ম্যাচ আগামী ১১ নভেম্বর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। তার আগে ৮ নভেম্বর ভুটানের মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা। অন্যদিকে দিনের প্রথম ম্যাচে ‘বি’ গ্রুপের লড়াইয়ে পাকিস্তানকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে ভারত।
সাফের উদ্বোধনী দিনের উৎসব শেষ হয়েছে বাংলাদেশের জয়ে। তবে সেই জয়ের গল্পে সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়ে থাকবেন মোহাম্মদ ইব্রাহিম-যিনি বদলি হিসেবে নেমে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে গ্যালারিকে ফিরিয়েছেন উল্লাসে!


